আমাদের অর্থ দিয়ে মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিলো পাকিস্তান, বললেন প্রধানমন্ত্রী

ফাতেমা আহমেদ : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে বাংলাদেশের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাকিস্তান মরুভূমির দেশ। আমাদের অর্থ দিয়ে মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিলো পাকিস্তান। আর আমাদের দেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিলো তারা। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন, সারাবাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পাট-চা-তামাক বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম। সব নিয়ে যেতো পাকিস্তানিরা। পাকিস্তান রাজধানী পরিবর্তন করেছে বারবার। একটা ছিল করাচি, এরপর ইসলামাবাদ এরপর পিন্ডি। যতবার রাজধানী পরিবর্তন হয়েছে তার অর্থ আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে। টাকা দিতে হতো আমাদের আর ভোগ করত তারা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের এই বৈষম্যনীতির অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন বঙ্গবন্ধু।
বাঙালিরা পাকিস্তানিদের চেয়ে এগিয়ে ছিলো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চিন্তা-চেতনা, খাদ্যাভ্যাস কোনও কিছুতেই পাকিস্তানিদের সঙ্গে আমাদের কোনও মিল ছিলো না। শিক্ষা-দীক্ষা-সংস্কৃতি সবদিক থেকে আমরা উন্নত ছিলাম। সংখ্যাগরিষ্ঠের ওপর সংখ্যালঘিষ্ঠের বৈষম্য-শোষণ-নির্যাতনের সময় ছিলো সেটি।’
এমনকি দেশভাগের (১৯৪৭ সালে) পর ভারতের হাত থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে বাঙালিরাই এগিয়ে গিয়েছিলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ভারতের হাত থেকে পাকিস্তানকে বাঙালিরাই রক্ষা করেছে। পাকিস্তানের উঁচু-লম্বা সৈন্যরা কিন্তু এগিয়ে যায়নি, বাঙালি রেজিমেন্টই এগিয়ে গিয়েছিলো। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে বাঙালি ছাড়া রক্ষা হতো না। এরপর ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা ছয় দফা দিলেন।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দুই মাস পর পর আমাদের ঋতু বদলায়, সবই বদলায়। যার ফলে আমরা খুব বিস্মৃতিপরায়ণ। না হলে যে পাকিস্তানিরা বাঙালিকে অত্যাচার করেছে, স্বাধীনতার সময় কীভাবে একটা অংশ সেই পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করলো।’
স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বাঙালি স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ৯৬ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মিত্রবাহিনীকেও দেশে ফেরত পাঠান। এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন স্বাধীনচেতা নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতো একজন নেতা ছিলেন বলে। বিশ্বের কোনও দেশে মিত্রবাহিনী যুদ্ধের পর ফেরত যায়নি, শুধু বাংলাদেশেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

Leave a Comment