ইলিশের দাম আকাশচুম্বী

আসন্ন ১লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ইলিশের চাহিদা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। ফলে দামও আকাশচুম্বী। বাড়তি চাহিদা ও আকাশচুম্বী দামকে পুঁজি করে এক কেজির বেশি ওজনের একটি ইলিশের দাম ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাচ্ছেন বিক্রেতারা। এক মাস আগেও এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা ট্রেডিং

করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)
হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এদিকে গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির দামও আগের মতোই চড়া। রাজধানীর কাওরনবাজার, মালিবাগ, সেগুনবাগিচার বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ মাছ ও মাংসের চাহিদা বেড়েছে। সেই তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। তাই বাড়তি দামে ইলিশ বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ১লা বৈশাখের পর ইলিশের দাম স্বাভাবিক হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। এক যুগের কম সময়ে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।

জানা গেছে, গত ২ বছরের তুলনায় এবার রাজধানীর বাজারগুলোতে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম তুলনা মূলক বেশি বেড়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ইলিশের দাম স্বাভাবিক ছিল। কারণ ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ইলিশ খাবেন না, ইলিশ ধরবেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের খাদ্য তালিকা হিসেবে- খিচুড়ি, সবজি, মরিচ ভাজা, ডিম ভাজা ও বেগুন ভাজার কথা উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বানের কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের চাহিদা কিছুটা হলেও কমে যায়। তবে দুই বছর বিরতি দিয়ে এবার আবার ইলিশের দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০০ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ খেকে ১৫০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকায় এবং ৮০০ থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত।

তবে ছোট আকারের ইলিশের দাম কিছুটা কম। বাজারে ব্যবসায়ীরা ৮০০-৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৫০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৮০০-৯০০ টাকা। ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ৩৫০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা জোড়া, যা গত বছর ৮০০ টাকা হালি ছিল।

মাছ ব্যবসায়ী কাদের বলেন, প্রতিবারই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছর দাম বাড়েনি। কিন্তিু এবার ইলিশের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, জেলেদের জালে এখন ইলিশ খুব একটা ধরা পড়ছে না। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম, এ কারণে এবার ইলিশের দাম বেড়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, এখন বাজারে সব থেকে বড় আকারের যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। তবে বড় ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।

এদিকে বাজারে কয়েকটির সবজির দাম কিছুটা কম হলেও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশ চড়া। বাজারে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। পাকা টমেটো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ২০-২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-৭০ টাকা।

ক্রেতা মামুন বলেন, রোজা আসতে এখনও প্রায় একমাস বাকি। অথচ এখনই রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। এদকে অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটি, কচুর লতি, শিম, লাউ, ধুন্দুল ও বেগুনের দাম। বরবটি গত সপ্তাহের মতো ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, কচুর লতি ও করলা।
শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। লাউ ৭০-৮০ টাকা, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা পিস। আর ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত থাকা গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজি। বাজার ভেদে গরুর মাংস ৫৩০-৫৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি।
বাজারে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি। রুই ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৭০০-৮০০, শিং ৩০০-৫০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকা কেজি।
মতামত দিন

Leave a Comment