অগ্নিনির্বাপণ পণ্যের বিক্রি বেড়েছে দামও বেশি

অগ্নিনির্বাপণ পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। হঠাৎ এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে দামও। সমপ্রতি ঘটে যাওয়া বেশকিছু অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনির্বাপণ পণ্যের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বহুতল ভবনসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুপাতে মজুত না থাকায় পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। তারা জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপক পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। ছোটবড় প্রতিষ্ঠানগুলো ফায়ার এক্সটিংগুইশার বেশি কিনছে। চাহিদা আছে এক্সটিংগুইশার বলেরও।

এছাড়া বহুতল ভবন ও কারখানার জন্য ফায়ার ফাইটিংয়ের বিভিন্ন সল্যুশনের চাহিদাও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) সভাপতি মোতাহার হোসেন খান মানবজমিনকে বলেন, সম্প্রতি বড় কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। ফলে ফায়ারের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেড়েছে অনেক। তিনি বলেন, ৬ মাস আগেও পণ্যগুলো নিয়ে দোকানির বসে থাকতেন। কিন্তু সম্প্রতি বড় কয়েকটি আগুন লাগার ঘটনার পর বাজারে পণ্যগুলোর বিক্রি বেড়ে যায়। তবে একটি বিষয় জরুরি, শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিনলেই সমাধান হবে না। কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা দরকার, ব্যবহার পদ্ধতিও জানার প্রয়োজন রয়েছে।

জানা গেছে, সিওটু ফায়ার এক্সটিংগুইশারের দাম এখন প্রায় ৪ হাজার টাকা, যা আগে ২৫শ’ টাকায় পাওয়া যেত। অন্যদিকে, ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার এক্সটিংগুইশার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, যা আগে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যেত। চাহিদা বাড়ায় অগ্নিনির্বাপক পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনলাইন স্টোরগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল আগুনের স্পর্শ পাওয়ার ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই যেকোনও ধরনের আগুন নেভাতে সক্ষম। এ প্রসঙ্গে অনলাইন বাজার রাইট চয়েজের জেনারেল ম্যানেজার মো. পলাশ মানবজমিনকে বলেন, উন্নত দেশে আগুন নেভাতে এই প্রযুক্তি আরও আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি কেনার জন্য ক্রেতাদের মধ্যে প্রচুর সাড়া পড়েছে। প্রতিটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল এখন ২২শ’ থেকে ২৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েদিন আগেও ১২৫০ টাকায় বিক্রি করা হতো এটি। বনানীর ঘটনার পর পণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি জানান, এই পণ্যটি চায়না থেকে আমদানি করা হয়। এতে খরচ পড়ে সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। কিন্তু দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পণ্যটির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড সময়ে নিজ থেকে বিস্ফোরিত হবে। একটি বলের মেয়াদ ৫ বছর। বলটি যেখানে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে সেখানে রাখা উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফায়ার এক্সটিংগুইশার ৫ কেজি ওজনের দাম ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা। ফায়ার এক্সটিংগুইশার তরলটার চেয়ে পাউডারটার দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। শুধু বহুতল ভবন নয়, সব ভবনেই আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তার জন্যই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

বেঙ্গল টেকনোলজিক্যাল করপোরেশন লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্র কুমার সাহা মানবজমিনকে বলেন, আগুন নির্বাপণের জন্য মানুষের অবহেলা ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের আগুনের ঘটনায় অনেকেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মানুষ সচেতন হয়ে উঠছেন। এ বিষয়ে প্রতিদিন তাদের কাছে কিছু ফোনও আসছে। তিনি বলেন, তারা ফায়ারের সিস্টেম বিক্রি করেন। গুণগত কাজ করে থাকেন। গুণগত বিষয়টিতে তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি জানান, গত কয়েক দিনের আগুনের ঘটনায় অনেকেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ হয়ে রাজধানীর নবাবপুর বাজার থেকে পণ্যগুলো কিনছেন। বাজারে প্রায় ১৫/১৬ বছর ধরে ফায়ার ইক্যুইপমেন্ট বিক্রি করছে গৌমতি ফায়ার টেকনোলজি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার সেলিম আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, বিগত বছরগুলো এত চাহিদা দেখিনি।

তিনি বলেন, চাহিদা যত বেড়েছে, সেই অনুপাতে স্টকে মালামাল নেই, এই কারণে দামও বেড়েছে। আমাদের কাছে প্রতিদিন অসংখ্য ফোন আসছে বিভিন্ন প্রোডাক্টের জন্য। কিন্তু স্টক না থাকায় বেশির ভাগ লোককে প্রোডাক্ট দিতে পারছি না। আমরা প্রায় দেড় বছর আগে ৪ হাজার পিস ফায়ার এক্সটিংগুইশার বল এনেছিলাম। দেড় বছর অল্প কিছু বিক্রি হয়েছিল। অথচ গত কয়েক দিনে বাকি সব বল বিক্রি হয়ে গেছে। সেলিম আহমেদ বলেন, সবচেয়ে বেশি চাহিদা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। তিন ধরনের ফায়ার এক্সটিংগুইশার পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে-সিওটু এক্সটিংগুইশার, আরেকটি ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার এক্সটিংগুইশার এবং তরল পদার্থ। তিনি বলেন, এসব পণ্য স্থাপনের জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন।
মতামত দিন

Leave a Comment